গাথুনি সম্পর্কে কিছু কথা




একটি বিল্ডিং শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়
আমরা সাধারণত শুধু একটি বিল্ডিং দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিন্তু এই বিল্ডিংটির পেছনে কত মানুষের শ্রম, ঘাম, কষ্ট ও পরিশ্রম আছে—সেটা আমরা অনেক সময় অনুধাবন করতে পারি না।
প্রথমে আমরা ছাদ ঢালাই করি। এরপর কয়েকটি ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় গাঁথুনির কাজ।
আমি একজন Civil Site Engineer। আজকে আমার সাইটে গাঁথুনির কাজ চলছে।
কিন্তু গাঁথুনি শুরু করতে চাইলেই শুরু করা যায় না। গাঁথুনির আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হয়।
১. ফ্লোর পরিষ্কার করা
গাঁথুনি শুরু করার আগে পুরো ফ্লোর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হয়। ফ্লোরে ময়লা বা আলগা অংশ থাকলে চিপিং করে সেগুলো তুলে ফেলতে হয়। পরিষ্কার ও শক্ত বেজ ছাড়া ভালো গাঁথুনি করা সম্ভব নয়।
২. ড্রয়িং অনুযায়ী লেআউট দেওয়া
এরপর ড্রয়িং দেখে সঠিকভাবে লেআউট দিতে হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
এই সময় একজন ইঞ্জিনিয়ারকে খুব সতর্ক থাকতে হয়। সামান্য ভুল বা অমনোযোগের কারণে পরবর্তীতে বড় সমস্যা হতে পারে। এমনকি ভুল গাঁথুনি ভেঙে আবার করতে হতে পারে।
তাই লেআউট দেওয়ার সময় আমি সবকিছু খুব সতর্কভাবে চেক করি।
৩. সুতা ও সল দিয়ে গাঁথুনি চেক করা
গাঁথুনি করার সময় নিয়মিত সুতা ও সল ব্যবহার করে দেয়ালের সোজা ও উল্লম্ব অবস্থান চেক করতে হয়।
ঠিকভাবে চেক না করলে দেয়াল বাঁকা হয়ে যেতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে প্লাস্টারের সময় কোথাও বেশি, কোথাও কম মশলা লাগতে পারে।
এমনকি ভবিষ্যতে প্লাস্টার খুলে যাওয়া বা টাইলস বসানোর সময় দেয়ালে আঁকাবাঁকা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. গাঁথুনির পর পরিষ্কার করা
গাঁথুনির কাজ শেষ হওয়ার পর আলগা ময়লা, ইটের টুকরা ও অন্যান্য বর্জ্য ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, ভালো নির্মাণকাজেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৫. ইট ভিজানো ও বালুর মান নিশ্চিত করা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ইটকে প্রয়োজনমতো ভিজিয়ে ব্যবহার করা এবং ভালোভাবে পরিষ্কার/চালনি করা বালু ব্যবহার করা।
একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নির্মাণকাজের মানের ক্ষেত্রে আমি এখানে কোনো ছাড় দিতে চাই না।
কারণ আজকে একটি ছোট ভুল হয়তো চোখে পড়বে না। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই ভুলই বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
একটি ভালো বিল্ডিং শুধু দাঁড়িয়ে গেলেই ভালো বিল্ডিং হয় না।
এর পেছনে থাকা প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি শ্রমিকের পরিশ্রম এবং একজন ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বশীল তদারকিই একটি ভবনকে মানসম্মত করে তোলে।